রেনু খুঁজে ফিরছেন তাঁর শেকড়
১৯৭৭ সাল। ঢাকার একটি শিশুসদন থেকে রেনুকে দত্তক নেয় নেদারল্যান্ডসের একটি পরিবার।

রেনু খুঁজে ফিরছেন তাঁর শেকড়

ইমিগ্রেশন নিউজ ডেস্ক :

ক্ষুদ্র পৃথিবীটা বড়ই নিষ্ঠুর। কোন শিশু কোথা হতে হারিয়ে ফিরে, জীবনে তার হিসাব কষা কঠিন। এই পৃথিবী এখনো বাসযোগ্য হয়নি হয়তো শিশুদের জন্য। এখনো কত রেনু হারিয়ে যায় সড়কে-মহাসড়কে। নগর থেকে মহানগর ছাড়িয়ে তাদের ঠাঁই হয় অচেনা কোনো সমাজে। কিন্তু ঠিকই এক সময় সে খুঁজে ফিরে তার শেকড়। খুঁজে বেড়ায় নাড়ির বন্ধন।

তেমনই একজন খুঁজে বেড়াচ্ছেন পরিবারকে। খুঁজছেন নাড়ির টান। তিনি রেনু। চলুন জেনে নিই তার সম্পর্কে কিছু তথ্য।

১৯৭৭ সাল। ঢাকার একটি শিশুসদন থেকে রেনুকে দত্তক নেয় নেদারল্যান্ডসের একটি পরিবার। সেই থেকে পেরিয়ে গেছে বেশ কয়েক বছর। ৫ বছরের সেই শিশু রেনু ৯৪ এ এসে তরুণী। ইচ্ছে হয় ফিরবেন শেকড়ে, পরিবারের খোঁজে। তারপর কেটে গেছে অনেক বছর। কিন্তু এখনও শেকড়ের সন্ধান মেলেনি তাঁর।

সম্প্রতি, রেনু চান তার পরিবারের কাছে ফিরতে- মানিকগঞ্জের সিঙ্গড়াইয়ে। তাঁর এমন আকুতি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট করেন প্রবাসী সাংবাদিক সোহেল মাহমুদ। তিনি পোস্টে লেখেন, ‘কিছু স্বাদ। গন্ধ। ক’টা নাম। সবকিছুই আবছা। রেনু নামটা কাগজে আছে বলে জ্বলজ্যান্ত।’

কী পরিচয় রেনুর?

বাবা মনির উদ্দিন, মা মরিয়ম বেগম। জন্ম মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে। রেনুর সঙ্গে থাকা কাগজপত্রে সেভাবে লেখা। ৫ বছর বয়সে রেনুকে তুলে দেওয়া হয়েছিল রয়াল ডাচ এয়ারলাইন্স-কেএলএমে। গন্তব্য নেদারল্যান্ডস। বড় হয়ে উঠে রেনু। কিন্তু ১৯৯৪ সালে তার মনে হলো শেকড়ে ফেরা দরকার। সেই থেকে এখনো উৎসের সন্ধানে রেনু আছেন। ব্যবসা নিয়ে পর্তুগালে ব্যস্ত সময় কাটালেও রেনুর মন উতলা হয়ে আছে জন্মপরিচয়ের সন্ধানে।

সাংবাদিক সোহেল মাহমুদ লেখেন, রেনুর সঙ্গে কথা হলো। জানালেন, তাঁর শৈশবের কিছু স্মৃতি কিছুটা মনে আছে। ধনিয়ার স্বাদ, গন্ধ। তিন জন বড় বোন, আর একটা ছোট ভাই। এদের কারোর নাম খুরশিদ হতে পারে। কোনো একজন খুশি। রেনু বাংলা বলতেই পারে না।

যদিও রেনুর এই ঘটনা অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য ঠেকছে। তবে একটি ছবি আছে, যা ছড়িয়ে দিয়ে খুঁজছেন রেনুর শেকড়ের পরিচয়। এই ছবি হয়তো তাকে পৌঁছে দেবে শেকড়ের কাছে।

Leave a Reply