শরণার্থী থেকে ফুটবল তারকা!
গল্পের মতো শোনালেও বাস্তবের এই কাহিনি গাম্বিয়া বংশোদ্ভূত মিডফিল্ডার এব্রিমা ডারবোর।

শরণার্থী থেকে ফুটবল তারকা!

ইমিগ্রেশন নিউজ ডেস্ক :

বাবার হাত ধরে ১৪ বছরের কিশোরটি ছেড়ে আসে মায়ের আঁচল। নিজে দেশ চেনা মাঠ সব ছেড়ে অজানার পথে। কত যে বিপদ! নির্যাতনও সইতে হয়েছে। অবশেষে বিপদসংকুল পথ পাড়ি দিয়ে স্বপ্নের ইতালিতে। শুরু হয় শরণার্থী জীবন। কিন্তু যার রক্তে ফুটবল সে কি বসে থাকতে পারে। বল নিয়ে নেমে পড়েন মাঠে। সেই ফুটবলই মোড় ঘুরিয়ে দিল জীবনের। হয়ে উঠলেন ইতালির ফুটবল তারকা। শুনতে গল্পের মতো শোনালেও বাস্তবের এই কাহিনি গাম্বিয়া বংশোদ্ভূত মিডফিল্ডার এব্রিমা ডারবোর।

কৈশোরে লিবিয়া সীমান্ত হয়ে নৌকায় করে ইতালিতে এসেছিলেন। ২ মে ইতালির ফুটবল ক্লাব এস রোমার সাথে চুক্তিবুদ্ধ হয়ে ইতালিয়ান সেরি এ লিগে তাঁর ক্যারিয়ার শুরু করেন। বছরে তিনি ৫০ হাজার ইউরো উপার্জন করবেন।

২০০১ সালে গাম্বিয়ায় জন্ম নেয়া এব্রিমা ১৪ বছর বয়সে দেশ ত্যাগ করেন। তার পরিবারে খাদ্যাভাব ছিল এবং নানান সমস্যায় দিন কেটেছে। তার মা, এক ভাই এবং দুই বোনকে (তার বাবা কয়েক বছর আগে মারা গিয়েছিলেন৷) বিদায় জানিয়ে উন্নত ভবিষ্যতের খোঁজে ইউরোপের পথে যাত্রা শুরু করেন।

গাম্বিয়ার বাকোতেহ অঞ্চল থেকে যাত্রার পর পথে লিবিয়ায় মানব পাচারকারীরা তাকে একটি বন্দিশিবিরে নিয়ে গিয়ে প্রচণ্ড নির্যাতন ও মারধোর করেছিল। দুর্ভিক্ষ ও যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা এমন আরও অনেক অভিবাসীর সাথে পরে নৌকায় করে ইতালির সিসিলিতে পৌঁছাতে সক্ষম হন।

এই দ্বীপে পৌঁছানোর পর তাকে অপ্রপাতবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত অনেকগুলো এসপিআরএআর বা (শরণার্থী ও আশ্রয় প্রার্থীদের সুরক্ষা ব্যবস্থা) কেন্দ্রের মধ্যে একটিতে নেওয়া হয়েছিল। সে সময় তার উচ্চতা ছিল প্রায় ১.৮-মিটার কিন্তু ওজন ছিল ৫০ কেজি।

পরবর্তীতে তাকে লাজিও অঞ্চলের রিয়েতি এলাকায় একটি পরিবারের সাথে বসবাসের জন্য স্থানান্তর করা হয় এবং সেখানে আবার তার ফুটবলের অনুশীলন শুরু হয়। উল্লেখ্য যে, গাম্বিয়াতে খুব জনপ্রিয় একটি খেলা ফুটবল।

তারকা বনে যাওয়া

আস্ক ইয়ং রিয়েতি নামক একটি সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত প্রীতি ফুটবল ম্যাচ চলাকালে এস রোমা দলের প্রতিভা স্কাউটের নজরে আসেন এব্রিমা। প্রতিভা স্কাউট টিম তার খেলার দক্ষতা পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত তারা এস রোমার মালিক জেমস পালোত্তাকে বুঝিয়ে এই তরুণ মিডফিল্ডারের জন্য বিনিয়োগ করতে রাজি করান । এব্রিমা এএস রোমার ট্রিজোরিয়া ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ শুরু করে পরবর্তীতে কোপা ইতালিয়া অনূর্ধ্ব -২১ দলে সুযোগ পান। কিন্তু প্রশাসনিক অবস্থা অর্থাৎ রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন মঞ্জুর হতে দীর্ঘ সময় লাগায় এব্রিমাকে ক্লাবটির সদস্য বানাতে এস রোমাকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছিল।

প্রশাসনিক ঝামেলা দ্রুত সমাধান করতে ট্রাইব্যুনাল তার জন্য গৃহশিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি ফিফাকেও এব্রিমার জন্য হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল। এব্রিমা ডারবো আনুষ্ঠানিকভাবে এখন এস রোমার খেলোয়াড়। এস রোমার সাথে অভিষেকের পর এই মিডফিল্ডারের লক্ষ্য ভবিষ্যতে ফুটবলে শক্ত অবস্থান গড়ে তোলা। এত কিছুর মধ্যে এব্রিমার মনে পড়ে মায়ের মুখ। তাই তো আয়ের বড় অংশ পাঠিয়ে দেবেন মায়ের জন্য।

Leave a Reply