সঞ্চয়পত্র কী, কেন এবং কোথায় পাবেন?
সঞ্চয়পত্র কী, কেন এবং কোথায় পাবেন?

সঞ্চয়পত্র কী, কেন এবং কোথায় পাবেন?

ইমিগ্রেশন নিউজ ডেস্ক:

সঞ্চয়পত্র হলো সঞ্চয় স্কিম বা ফিক্সড ডিপোজিট। দেশের জনগণকে ঝামেলাহীন
অর্থবিনিয়োগের একটি উপায় বা পদ্ধতি। মানুষকে সঞ্চয়ী হতে উৎসাহিত করা,
ছড়িয়ে থাকা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয়  জাতীয় সঞ্চয় স্কীমের মাধ্যমে আহরণ করা,  সাধারণ মানুষের অর্থ বিনিয়োগের উপায় বাতলে দেয়ার অপর নাম হলো সঞ্চয়পত্র। অন্য কথায় বলা যায়, দেশের মানুষের জমানো অর্থ দীর্ঘ সময় ফেলে না রেখে ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগের মাধ্যমে মুনাফা লাভের সুযোগ। অথবা দেশের বিশেষ জনগোষ্ঠী যেমন নারী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, সিনিয়র নাগরিক, প্রবাসী ও প্রতিবন্ধী লোকের আর্থিক এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে আসার সুযোগ। একই সঙ্গে এর দ্বারা সরকারের সঞ্চয় স্কিমের মাধ্যমে আহরিত অর্থ দ্বারা জাতীয় বাজেট ঘাটতি পূরণ করার সুযোগ।

বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ডাকঘর থেকে সব সঞ্চয়পত্র কেনা ও নগদায়ন করা যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সব শাখা অফিস, সব বাণিজ্যিক ব্যাংক, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীন সারাদেশে ৭১টি সঞ্চয় ব্যুরো অফিস এবং পোস্ট অফিসে সঞ্চয়পত্র কিনতে পাওয়া যায়। নগদ টাকা ও চেকের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র কেনা যায়। ক্রেতা ও নমিনির দুই কপি পাসপোর্ট আকারের সত্যায়িত ছবি লাগে। জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট অথবা জন্মনিবন্ধন সনদের নম্বর অন্তর্ভুক্তির জন্য মূল কপি দেখাতে হয়।

সঞ্চয়পত্র কত ধরনের হয়?
বাজারে প্রচলিত চার ধরনের সঞ্চয়পত্র রয়েছে।  এই বিষয়ে নিচে উল্লেখ করা হলো-

১. পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্র:
সকল পেশার বাংলাদেশী নাগরিক ও অনুমোদিত প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা দ্বারা এই সঞ্চয়পত্র ক্রয় করা যাবে।একক ব্যক্তি নামে ৩০ লাখ, যৌথ নামে ৬০ লাখ। আর প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কোনো ক্রয়সীমা নেই। বিভিন্ন মূল্যমানের সঞ্চয়পত্র হয়, যেমন ৫,০০০, ১০,০০০, ২৫,০০০, ৫০,০০০, ১,০০,০০০, ৫,০০,০০০ ও ১০,০০,০০০। সাধারণত এক বছরে মধ্যে ভাঙালে কোনো সুদ পাওয়া যাবে না। আর এক বছর পর ৯.৩৫, দুই  বছর পর ৯.৮০%, তিন বছর পর ১০.২৫% , চার বছর পর ১০.৭৫% এবং মেয়াদ পূর্ণ করে বা পাঁচ বছর  শেষে ১১.২৮% শতাংশ সুদ পাওয়া যাবে।

২. মাসিক মুনাফাভিত্তিক পাঁ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চয়পত্র:

 ১৮ ও তদুর্ধ বয়সী বাংলাদেশি নারী, শারিরীকভাবে প্রতিবন্ধী বাংলাদেশি পুরুষ ও নারী এবং ৬৫ বছর ও তদুর্ধ বয়সী বাংলাদেশিরা এটি ক্রয় করতে পারবেন। একক ব্যক্তি নামে ৪৫ লাখ ক্রয়ের সুযোগ রয়েছে। এক বছরের মধ্যে ভাঙালে কোনো সুদ পাওয়া যাবেনা। তবে এক বছর পর ৯.৫০%, দুই বছর পরে১০.০০%, তিন বছর পর ১০.৫০%, চার বছর পর ১১.০০% এবং মেয়াদপূর্ণ করলে ১১.৫২% শতাংশ সুদ পাওয়া যাবে।

৩. তিন মাস অন্তর ৫ বছর মেয়াদী পেনশনার সঞ্চয়পত্র:
 অবসরপ্রাপ্ত সরকারী/আধা সরকারী/স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারী, অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের  বিচারকবৃন্দ, সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যবৃন্দ, পেনশন সুবিধাভোগীর স্বামী/স্ত্রী এবং সন্তানরা এটি ক্রয় করতে পারেন। গ্র্যাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে অর্জিত অর্থ  সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্রয় করা যায়। এক বছরের মধ্যে ভাঙলে কোনো মুনাফা যুক্ত হবে না। তবে এক বছর পর ৯.৭০%, দুই বছর পর ১০.১৫%, তিন বছর পর ১০.৬৫%, চার বছর পর ১১.২০% এবং মেয়াদপূর্ণ করে বা ৫
বছর পর ভাঙলে ১১.৭৬% শতাংশ মুনাফা হবে।

৪. তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক ৩ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্র:
খুলতে পারবেন যেকোনো পেশার বাংলাদেশী নাগরিকেরা এটি খুলতে পারবেন। একক ব্যক্তি নামে ৩০ লাখ, যৌথ নামে ৬০ লাখ পযন্ত সীমা।  এক বছর আগে ভাঙলে কোনো মুনাফা হবে না। তবে এক বছর পর ১০%, দুই বছর পর ১০.৫০% এবং মেয়াদপূর্ণ শেষে ভাঙলে ১১.০৪% শতাংশ পাওয়া যাবে।

কোথায় পাওয়া যায়?
জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো, বাংলাদেশ ব্যাংক, তফসিলী তথা সোনালি, জনতা, অগ্রণী, রূপালী প্রভৃতি ব্যাংক থেকে , ডাকঘর থেকে ক্রয় ও নগদায়ন করা যায়।
এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ক্রয় করা সবচেয়ে সহজ। কারণ এতে করে কুপন নিয়ে দৌঁড়ঝাপ করতে হয় না। প্রতি মাসের একটি নির্দিষ্ট তারিখে সঞ্চয় ক্রয়কারীর ব্যাংক একাউন্টে সকল তথ্য ও যাবতীয় বিষয় আপডেট পাঠিয়ে দেবে।

এই বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন:
http://www.nationalsavings.gov.bd/site/page/d074ce23-94bc-401d-ab56-ff273cb52965/-

Leave a Reply