সাগরের বুকে ৫৩ প্রাণ হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা
এখন পর্যন্ত ছয়টি যুদ্ধজাহাজ, একটি হেলিকপ্টার ও ৪০০ জন নৌ-সেনা সেখানে উদ্ধারকাজে জড়িত আছে।

সাগরের বুকে ৫৩ প্রাণ হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা

ই‌মি‌গ্রেশন নিউজ ডেস্ক :

ইন্দোনেশিয়ান সাবমেরিনের অক্সিজেন শেষ হয়ে যাওযায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থা আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে ৫৩ জন ক্রু বহনকারী সাবমেরিনটি হয়তো এর আগেই গভীর সাগরে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে। 

দেশটির সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই সাবমেরিনটিতে স্থানীয় সময় শনিবার (২৪ এপ্রিল) ভোর ৩ টা পর্যন্ত অক্সিজেন থাকার কথা। সেই সময়সীমা এখন শেষ হয়েছে। ইন্দোনেশীয় নৌবাহিনীর মুখপাত্র জুলিয়াস উইজ্জজোনো জানান, ডিজেল-ইলেক্ট্রিক শক্তিতে চালিত সাবমেরিনটি ৫০০ মিটার (১ হাজার ৬৪০ ফুট) গভীরতায় টিকে থাকতে পারে, তবে এর নিচে চলে গেলে ফলাফল ভয়ঙ্কর হবে। কারণ সমুদ্রের গভীরে পানির চাপে ইস্পাতের আবরণে ফাটল ধরতে পারে। ভয়ের বিষয় হচ্ছে, বালি সাগরের গভীরতা কিছু কিছু জায়গায় দেড় হাজার মিটারেরও বেশি।

বুধবার (২১ এপ্রিল) বালি উপকূলে টর্পেডো ড্রিল করার সময় কেআরই নাংগালা-৪০২ নামক সাবমেরিনটি নিখোঁজ হয়ে যায়। ডুব দেয়ার কিছুক্ষণ পরেই তা যোগাযোগ হারিয়ে ফেলে। সাবমেরিনটি উদ্ধারে কাজ করছে অনেকগুলো অনুসন্ধান দল। এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া, ভারত, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া উদ্ধার কাজে সহেযোগিতা করছে। 

শনিবার (২৪ এপ্রিল) মার্কিন নৌ-বাহিনীর একটি পি-৪ পসেইডন বিমান বালিতে অবতরণ করেছে। এছাড়া ফ্রান্স ও জার্মানিও সহায়তায় প্রস্তাব দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত ছয়টি যুদ্ধজাহাজ, একটি হেলিকপ্টার ও ৪০০ জন নৌ-সেনা সেখানে উদ্ধারকাজে জড়িত আছে। দেশটির নৌবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ইয়ুদো মার্গোনো বলেছেন, সাগরের ৫০ থেকে ১০০ মিটার গভীরতায় একটি বস্তুর ‘লক্ষণ’ শনাক্ত করেছে। ধারণা করা হচ্ছে এটি সেই সাবমেরিনের। তাছাড়া সাবমেরিনটিকে সবশেষ দেখতে পাওয়া জায়গায় তেল ভাসতে দেখা গেছে। 

জার্মান নির্মিত কেআরই নাংগালা-৪০২ ইন্দোনেশিয়া পরিচালিত পাঁচটি সাবমেরিনের একটি। এটি ১৯৭০ দশকের শেষ দিকে নির্মিত হয়। এবং তা ২০১০ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ায় সংস্কার করা হয়। 

Leave a Reply