স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিন, বাঙালির রুখে দাঁড়ানোর দিন
স্বাধীন সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে বাঙালির রুখে দাঁড়ানোর দিন

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিন, বাঙালির রুখে দাঁড়ানোর দিন

ইমিগ্রেশন নিউজ : আজ ছাব্বিশে মার্চ। মহান স্বাধীনতা দিবস। গোটা জাতি আজ উদ্‌যাপন করছে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনটির উৎসবে যুক্ত হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। স্বাধীন সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে বাঙালির রুখে দাঁড়ানোর দিন আজ। ১৯৭১ সালের এই দিনে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে গোটা জাতি। হানাদার পাকিস্তানিদের এ দিনে জানিয়ে দেয়…বাংলাদেশ মাথা নোয়াবার নয়।

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ’৪৮ এ বাংলা ভাষার দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের পথ বেয়ে আসে ’৫২ এর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে জয়লাভ, ’৫৬-এর সংবিধান প্রণয়ন আন্দোলন, ’৫৮-এর মার্শাল ’ল বিরোধী আন্দোলন, ’৬২-এর শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলন, ’৬৬-এর বাঙালির মুক্তির সনদ ৬-দফা আন্দোলন, ৬৮-এর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ’৬৯-এর রক্তঝরা গণঅভ্যুত্থান, ৬-দফা ভিত্তিক ’৭০-এর ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন। 

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ খ্যাত কালজয়ী ঐতিহাসিক ভাষণ ও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনসহ হাজারো  ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনের চূড়ান্ত লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওঠে বাঙালি জাতি।

১৯৭১ সাল। স্বাধীকার থেকে স্বাধীনতার সংগ্রাম। স্বাধীনতার সংগ্রাম থেকে স্বাধীনতার যুদ্ধে উত্তরণের অগ্নিঝরা দিনলিপি। শান্ত,নিরস্ত্র বাঙালি, ক্ষোভে দ্র্রোহে সশস্ত্র হয়ে ফুঁসে উঠেছে। জনরায় ছিনিয়ে নিয়ে পাকিস্তানি শাসন টিকিয়ে রাখতে হায়েনার থাবা নির্বিচার হত্যায় সবকিছু স্তব্ধ করার প্রয়াস। টার্গেট হলেন বঙ্গবন্ধু,কিন্তু নিজের জীবন তুচ্ছ করে বঙ্গবন্ধু যখন বিশ্বকে জানিয়ে দিলেন ‘আজকে থেকে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ।’ তখনই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠলো হানাদার পাকিস্তানিরা।

একাত্তরের ৭ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ, এই ১৯টি দিনে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার সব ষড়যন্ত্র আর হীন রাজনীতির খেলায় পাকিস্তানি নেতৃত্ব নতজানু হলো বঙ্গবন্ধুর প্রজ্ঞার কাছে।  আর এতেই শেষ কামড় দিয়ে টিকে থাকতে চাইলো তারা। বাঙ্গালির স্বাধীনতার স্পৃহাকে, চিরতরে নিশ্চিহ্ন করতে, এ রাতে ঢাকা শহরে চলে ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ নামক, এক নিধনযজ্ঞ। এই বিভিষিকাময় রাতে, কেবল ঢাকা শহরেই হত্যা করা হয়, প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে। এরই মধ্যে শুরু হয়ে যায় প্রতিরোধ, মুক্তিযুদ্ধ।

স্বাধীনতার বিকল্প আর কিছু নেই -এই অবস্থায় হানাদারদের রাইফেল,কামান বা বোমারু বিমানের সামনে দাঁড়িয়ে গেলেন বাংলার মানুষ। নিজেদের অপ্রতিরোধ্য করে তুললেন মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা। নয় মাসের এ এক জানবাজি যুদ্ধ, মাতৃভূমির জন্য।

বীর জনতা যখন যার কাছে যা আছে সেই হাতিয়ার নিয়েই প্রশিক্ষিত আধুনিক এক সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে আনাচে কানাচে প্রতিরোধ গড়ে তুললো,তখনি ধাক্কা খেলো পাকিস্তান বাহিনী। এভাবেই যে জয়ের পতাকা উড়তে শুরু করলো বাংলার আকাশে,তার শেষটা আসে একেবারে ১৬ ডিসেম্বর। তবে দেশকে স্বাধীন ঘোষণার সূচনার সেই ক্ষণ,২৬ মার্চ। বাংলাদেশের গৌরবরে এবং আড়ম্বরের এক দিন।

Leave a Reply