হজ এজেন্সিগুলোর অনিয়ম প্রতিরোধে সংসদে বিল পাস
সরকার হজযাত্রার তদারকি ও পরিচালনা করার জন্য একটি জাতীয় কমিটি গঠন করবে। হজ ও ওমরাহ এজেন্সিগুলিকে কিছু শর্ত মেনে কমিটিতে নিবন্ধন করতে হবে।

হজ এজেন্সিগুলোর অনিয়ম প্রতিরোধে সংসদে বিল পাস

ই‌মি‌গ্রেশন নিউজ ডেস্ক :

হজ ও ওমারাহ পালনকারীদের সৌদি আরব ভ্রমণের ক্ষেত্রে এজেন্সিগুলো ফৌজদারি অপরাধ করলে তার বিচার করতে বিল পাস হয়েছে জাতীয় সংসদে। মঙ্গলবার (১৫ জুন) হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা বিল-২০২১ উপস্থাপন করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান এবং কণ্ঠভোটের মাধ্যমে তা পাস হয়। 

বিলটি ভোটে আসার আগে জনমত যাচাই,  কমিটির তদন্ত এব সংশোধনী প্রস্তাব নিষ্পত্তি করেন স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরি।প্রতিমন্ত্রী প্রথমে ৪ এপ্রিল বিলটি সংসদে উপস্থাপন করেন এবং তারপরে বিলটি মূল্যায়ন করার জন্য ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল।

আইনটির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল বলেছিলেন, “হজ ও ওমরাহ পরিচালনার বিষয়ে বর্তমানে কোনও বিধিবদ্ধ আইন নেই। এটি নির্বাহী আদেশ ও বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে যথাযথ বিধিবিধানের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি। ”

“হজ ব্যবস্থাপনায় যথাযথ নিয়মকানুনগুলো জড়িত মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং অন্যান্য সরকারী এজেন্সিগুলিকে পরিষ্কার করে দিলে হজযাত্রা আরও সহজ হবে”। 

বিলে কি আছে?

বিলে বলা হয়েছে,  সরকার হজযাত্রার তদারকি ও পরিচালনা করার জন্য একটি জাতীয় কমিটি গঠন করবে। হজ ও ওমরাহ এজেন্সিগুলিকে কিছু শর্ত মেনে কমিটিতে নিবন্ধন করতে হবে। হজ ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশে যদি কোনও চুক্তি হয় এবং এজেন্সি তার গ্রাহককে যে কোনও উপায়ে প্রতারণা করে, অপরাধের বিচার বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে।

সরকারের সাথে নিবন্ধনের জন্য হজ এজেন্সিটির ট্র্যাভেল এজেন্সি হিসাবে কমপক্ষে তিন বছরের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, ওমরা এজেন্সির জন্য তা দুই বছর। কোনও হজ এজেন্সি যদি  অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয় তবে এর নিবন্ধন বাতিল করা হবে এবং সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে।

যদি কোন ওমরাহ এজেন্সি অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়, তবে এটি নিবন্ধন হারাবে এবং সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। অন্যান্য দণ্ডের মধ্যে জামিন বাজেয়াপ্তকরণ, নিবন্ধন স্থগিতকরণ, সতর্কতা এবং তিরস্কারের অন্তর্ভুক্ত আছে। যদি কোনও এজেন্সি দুবার তিরষ্কৃত হয় করে তবে এর নিবন্ধনটি দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হবে।

যদি কোনও এজেন্সির নিবন্ধন বাতিল হয়ে যায় তবে এজেন্সিটির অংশীদার বা স্বত্বাধিকারীদের নতুন এজেন্সি নিবন্ধনের অনুমতি দেওয়া হবে না। তাদের অন্য কোনও সংস্থার কাজে জড়িত হতে বাধা দেওয়া হবে। যে কোনও এজেন্সি তাদের কপিরাইট পরিবর্তন করতে চায় তাদের অবশ্যই নিবন্ধকরণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে।
 

Leave a Reply